• ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩, শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

2nd Part

নিবন্ধ

তুমি আছো নীরবে - ভয়ঙ্কর রোমাঞ্চকর গল্প -(২য় পর্ব)

প্রথম পর্বের পরঃ তখন আমরা ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি , সবাই নতুন। খুব একটা বন্ধু আমার তখনও ছিলোনা কলেজে। আমি বিক্রম সৃজা ছিলাম তিন বন্ধু আর ঐদিকে ঈশান, স্নেহাশিস আর রাহুল ছিল তিন বন্ধু। এদের মধ্যে ঈশান একটু অন্যরকম ছিল, বদমেজাজি, অহংকারী। আমি বেশ বুঝতে পেরেছিলাম এই দম্ভ ওর নিজের প্রতি প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস থেকে আসে। ক্লাসে পড়া ধরলে আমি সবসময় উত্তর দিতাম, ও কোনোদিনও দিতোনা, একটু কেমনভাবে যেন তাকিয়ে থাকতো যেন মনে মনে আমার এতো পরিশ্রমকে কোনো পাত্তা পর্যন্ত দিচ্ছেনা। আমিও ওতো বেশি ভাবতাম না যতদিন আমি ওর সবচেয়ে রাগী রূপটা দেখেছিলাম। সেদিন ক্লাসে হটাৎ রঞ্জিতের দলবল এসে চড়াও হয় সঞ্জয়ের উপর, কি দোষ না সঞ্জয় ইউনিয়নে গিয়ে সিনিয়রদের নামে কমপ্লেন করে এসেছে এই বলে যে সিনিয়ররা নাকি আমাদের উপর রাগ্গিং করে জেতা মিথ্যা মোটেই ছিলোনা তবু কারোর মুখ খোলার সাহস ছিলোনা। আমরা সবাই ভয়ে চুপচাপ বসেছিলাম আর দেখছিলাম কিভাবে রঞ্জিতদারা ক্লাসে সবার সামনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছে সঞ্জয়কে, ওদের মধ্যে দুজন তো চড় পর্যন্ত মেরেছে। একটা সময়ে আমরাই আর এই অপমান নিতে পারছিলাম না ঠিক তখন উদয় হলেন ঈশান। সে আসলো আর শুধু বললো সঞ্জয়কে না ছাড়লে ফল ভালো হবেনা, সিনিয়ররা ওর এই কথায় খুব হেসেছিলো কিন্তু হাসি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি কারণ কিছুক্ষনেই ক্লাসে আসে ইউনিয়নের দাদারা যারা এরপর আমাদের সামনেও আমাদের সিনিয়রদের অকথ্য ভাষায় অপমান করে। পরে জানতে পারি যে সেই ফোনটা আসলে ঈশান করেছিল, ওই যথেষ্টই সাহসী আর জেদি ছিল। ওর ওই সাহস আমায় আরো বেশি ওর দিকে টানতো আমিও পাগলের মতো ছুটতাম। তখনও বুঝিনি পরে বুঝেছি, ভুল করেছি আমি।এতদূর বলে সায়নী থামলো, ওর চোখ ডাইনিং এর ওই ফাঁকা চেয়ারটার দিকে, হয়তো ওখানেই এখনো ঈশান বসে। ওই চোখ ওই মুখ ওই হাসি। স্নেহাও ওর সাথে ঐদিকে তাকালো ভয়ে ভয়ে আর সায়নীকে বললো, তারপর? তারপর কি হলো?সায়নী, আচ্ছা স্নেহা তুই কাওকে চেয়ারে দেখতে পাচ্ছিস না সত্যি?স্নেহা আরো একবার পিছন ফিরে দেখলো, কোই কাওকে তো দেখা যায়না, কিন্তু সায়নীর এই কথাটা ওর মেরুদণ্ডে হিমশীতল স্রোত বয়ে আনে। স্নেহা, কে আছে পিছনে?সায়নী, ঈশান বসে আছে ওই একইভাবে। আমার দিকে তাকিয়ে।স্নেহা সায়নীর কাছে সরে আসে, মনে মনে সে হনুমান চল্লিশা জপ করতে শুরু করেছে আর সায়নীর বাম হাত বিছানার চাদরটাকে মুঠো করে ধরে আছে। হটাৎ ডাইনিং থেকে একটা স্টিলের গ্লাস পড়ার আওয়াজ হলো, দুজনের চমকে উঠে দুজনকে জাপ্টে ধরলো, যখন ভয়ের চরম সীমায় ওরা তখনই ওদের পোষ্য মিনি বেড়াল সুকু নিজের সুন্দর কণ্ঠে বলে উঠলো, মিওয়াওসুকুকে দেখে দুজনেরই ধড়ে যেন প্রাণ ফিরে এলো।অনেক কষ্টে স্নেহা বললো, তুই সত্যিই ওকে দেখতে পাচ্ছিস?সায়নী তখনও এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ডাইনিং এর ওই চেয়ারটার দিকে, বেশ কিছুক্ষন এভাবে কাটার পর অবশেষে যেন সায়নী হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো আর মৃদু স্বরে বললো, ও চলে গেছে।সায়নীর কথা শুনে ভয়ে ভয়ে স্নেহা আবারও খাটে এসে বসলো, আচ্ছা ছেলেটা কি কোনোভাবে..... আর নেই?সায়নী এই কথার কোনো উত্তর দিতে পারলোনা, ওর মুখ থেকে যেন অনেকক্ষন কোনো কথা বেরোলোনা তারপর অবশেষে বললো, ওর মরে যাওয়ার কথা নয়, ওর বেঁচে থাকারই কথা, কি হচ্ছে আমি নিজেও বুঝতে পারছিনা। ওর মতো ছেলে এতো সহজে জীবনের কাছে হার মানতে পারে?স্নেহা, তুই মাথা ঠান্ডা করে পুরো গল্পটা আমায় বল, আগে আমায় এটা জানতে হবে ঠিক কি হয়েছিল ঈশানের সাথে, তোর সাথে, তবে আমি বুঝতে পারবো আমাদের কি করা উচিত এই মুহূর্তে।স্নেহার কথায় সায়নী সায় দিলো আর আবারও বলতে শুরু করলো-ঈশানের প্রতি আমার আকর্ষণ দিন দিন বাড়তে লাগল, ক্রমে সেইদিন এলো যখন আমাদের ফার্স্ট সেমেস্টারের রেজাল্ট এলো আর সবাই জানতো ঈশান প্রথম হবে আর সেটাই হয়। ঈশানের নাম সবার আগে উজ্জ্বল, সেইদিন আমার নামটা ছিল ঠিক ওর পরে, দ্বিতীয় স্থানে। কোনোদিনও আমি প্রথম ছেড়ে দ্বিতীয় হয়নি, সেদিন হয়েছিলাম প্রথমবার আর যার জন্য হয়েছিলাম তাকে আরো জানার ইচ্ছা তীব্র হলো আর ঐদিনই প্রথমবার ওর দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিলাম। ঈশানও দেখলাম আমার এই বন্ধুত্বের প্রস্তাবে এগিয়ে এলো। তারপর ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব গাঢ় হলো, আমরা দুজন সবসময় একসাথে থাকতাম, সেটা লাইব্রেরি হোক বা ক্লাস বা কোথাও ঘুরতে যাওয়া। ঈশান থাকতো মেসে, আমি ওর পরিবারের বিষয়ে কোনোদিনও জিজ্ঞেস করিনি, তবে একদিন দেখেছিলাম ওদের বাড়ির অবস্থা বিশেষ ভালো না আর কোনো এক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা ছেলে ও। ওর ধ্যান ধারণা আমাদের মতো নয় ঠিক, ওকে আমি কোনোদিনও বলিনি আমি ওকে ভালোবাসি আর যার বাড়ির এই অবস্থা সে বেশি কি বা করতে পারতো, খুব জোর হলে হয়তো গ্রাম থেকে উঠে শহরে আসতো। কিন্তু আমার বাবা তো শহরে রাজ করছে তাও বহুবছর ধরে, আমাদের ব্যবসা থেকে যা আয় হয় তাতে আমার বাবা ওদের বাড়ি দুবার কিনে বেচে দেবে হয়তো, সেই বাড়ির ছেলের সাথে আর যাই হোক আমার প্রেম হতে পারেনা। আর আমি এই বিষয়ে খুবই বাস্তববাদী, আমি ওই সিনেমার নায়িকাদের মতো অবাস্তব জগতে বাঁচতে পারিনা। আমি সবসময় বন্ধু হয়ে থেকেছি আর সেইসময় আমি দেখতাম ওর মধ্যের অদ্ভুত পরিবর্তন। ওই আমাকে নিজের স্ত্রীর মতো দেখতো যেন, কোনো ছেলে আমায় স্পর্শ করলে তাকে এমন মারতো যে সে দুদিন কলেজে আসতে ভয় পেতো। সেইসময় রাহুল রাজনীতিতে ঢুকেছে, কলেজ রাজনীতিতে ওর দাপুটে উপস্থিতি, আর রাহুলের বন্ধু হওয়ার সূত্রে কারোর সাহস ছিলোনা ঈশানের সাথে শত্রুতা করার আর এই ব্যাপারটার সম্পূর্ণ সুযোগ তুলতো সে। আমার বেস্ট ফ্রেন্ড সৃজাও তখন রাহুল বলতে অজ্ঞান আর ঈশানকে ওই নিজের ভাইয়ের মতোই দেখতো তাই আমি ওদের চাইলেও কিছু বলতে পারতাম না।স্নেহা, আচ্ছা তোর সাথে এই ঘটনা কবে থেকে ঘটছে? মানে কবে থেকে তুই ঈশানের এই অশরীরী উপস্থিতি বুঝতে পারছিস?সায়নী একটু ভেবে বললো, বেশিদিন না, মাঝে মাঝে মনে হতো আমি ওর গলার স্বর শুনতে পাচ্ছি, কিন্তু দেখতে পেতাম না। ভাবতাম মনের ভুল, কিন্তু এখন ওকে আমি সামনেও দেখতে পাই, আর জানিনা এরপর কি হবে। আচ্ছা ওর সাথে কি কিছু খারাপ হয়েছে?স্নেহা, বুঝতে পারছিনা রে, এরকম ঘটনা আমি সিনেমায় দেখেছি, গল্পে পড়েছি কিন্তু আজ সত্যি দেখছি।সায়নী, জানিস একটা সময় এমনই আসে যখন ক্লাসের সবার সাথে ধীরে ধীরে ওই আমার সাথে কথা বলা পর্যন্ত বন্ধ করে দেয়, আমায় দেখলে এমন একটা ব্যবহার করতে শুরু করে যেন আমি ক্লাসে থেকেও নেই, যেন আমি ঈশানের সম্পত্তি যেটার দিকে তাকানো উচিত নয়।স্নেহা, আচ্ছা তাই তোর কোনো পুরোনো বন্ধুর সাথে যোগাযোগ নেই, আমি আগে ভাবতাম তুই পুরোনো মানুষদের কেন এতো এড়িয়ে চলিস এমন কি প্রথম যখন রাহুল এই কোম্পানিতে আসে তুই ওকেও এড়িয়ে চলতিস যতদিন না রাহুল নিজে এসে তোর সাথে কথা বলেছিলো।সায়নী স্নেহার এই কথায় সায় দেয়, বলে, খুব অদ্ভুত লাগতো, বিশেষত রাহুল ঈশানের খুব ভালো বন্ধু ছিল। তাই আমি আরোই এড়িয়ে চলতাম।স্নেহা, তারপর? তারপর কি হলো?সায়নী- ঈশানের ব্যবহার দিনদিন বদলাতে শুরু করলো, আগে ওই অন্যদের মারধর করতো, পরে একই দোষে ওই আমার গায়েও হাত তুলতে শুরু করে, আমি নিজের বাড়িতেও জানাতে ভয় পেতাম এই ভেবে যে যদিও বাবা একবার জানতে পারে তবে ঈশানের সব শেষ করে ছাড়বে। আমি চাইতাম ঈশান নিজের জায়গায় সফল হোক ব্যাস আমার জীবন থেকে দূরে চলে যাক। এইভাবেই সেমিস্টারের পর সেমেস্টার শেষ হতে থাকে আর আমরা শেষের পথে এগোতে থাকি। এইসবের মধ্যে বিক্রমও আমার থেকে অনেকটাই দূরে সরে গেছিলো, একটা সময়ে আমি আর না পেরে ওকে সব জানাই আর ওর সাহায্য চাই। বিক্রম প্রথমে রাজি হয়নি পরে অবশ্য আমার কথা ভেবেই হোক বা যে কারণেই হোক ওই রাজি হয়। আমি শেষ সেমিস্টার শেষ হওয়ার পরেই ঈশানকে ব্লক করি। ওই আমায় হন্যে হয়ে খুঁজেছিলো তা আমি জানি আর যখন জানতে পারে বিক্রম আর আমি সম্পর্কে আছি তখন ওই বিক্রমের উপরেও একদিন চড়াও হয়েছিল। তারপর আর ওকে দেখিনি, অনেকবার চেষ্টার পর যেন হটাৎ নিঃস্তব্দতা। এদিকে প্লেসমেন্ট সিজন চলে এসেছিলো, আমাদের সবারই মোটামুটি চাকরি লেগে যায় আর আমি ছিলাম ক্লাসের টপার তাই আমি এই কোম্পানিতে খুব সহজেই চলে আসি, অথচ এই কোম্পানিতে আসা নাকি ঈশানের স্বপ্ন ছিল যে স্বপ্ন পূরণ করতে ওই কোনোদিনও এলোই না, কোনো প্লেসমেন্টে বসলোনা। প্রথম প্রথম ব্যাপারটা আমায় ভাবিয়েছিল কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সব পরিবর্তন হয় ঠিক সেরকমই আমার জীবনেও পরিবর্তন আসে। আজ তিন বছর কেটে গেছে, হটাৎ এসব কেন হচ্ছে আমি জানিনা রে সত্যিই জানিনা।সায়নী নিজের গল্প শেষ করলো আর এতক্ষন স্নেহা সব শুনলো, সব শুনে সে বললো, আমার মনে হয় কাল তোর রাহুলের সাথে কথা বলা উচিত, কারণ ঈশানের কি হয়েছে জানলে একমাত্র ওই জানবে আর কেও না।সায়নী, আমি ওকে জিজ্ঞেস করেছি রে কিন্তু ওই কোনো সোজাসুজি উত্তর দেয়নি, কাল আমায় জানতেই হবে যেভাবেই হোক।স্নেহা, কালকেরটা নাহয় কাল দেখা যাবে, তবে আজ আমার আর সাহস হচ্ছেনা, আমরা আজ একসাথেই থাকি বরং।সায়নী, সেটাই বরং ভালো, আমারো খুব একটা ভালো লাগছেনা এইসব কিছু। আচ্ছা স্নেহা তোর কি মনে হয় এটা কি আমার মনের ভুল নাকি সত্যিই কিছু আছে, সত্যিই ও আমায় ভোলেনি?স্নেহা, যাই হোক আজ রাতে আর ভেবে কাজ নেই সায়নী, কারণ যদি তোর দ্বিতীয় কথা সত্যি হয় তবে আমরা কিন্তু বড্ড বিপদের মধ্যে রয়েছি।এরপর আর দুজনে কোনো কথা বলেনি, রাতের ডিনার শেষ করে একসাথেই শুয়ে ঘুমিয়েছে। পরেরদিন সকালে যখন ঘুম ভাঙে সায়নীর সে দেখে আজও স্নেহা তৈরী অফিস যাওয়ার জন্য।স্নেহা বেরোনোর আগে একবার সায়নীর পাশে বসে বললো, কাল রাতের তুই কি ওকে আবারও দেখেছিস?স্নেহার এই কথাটা শুনে সায়নী একটু অবাক হলো তারপর বললো, তুই কি করে জানলি?স্নেহা, স্বপ্নে বারবার ওর নাম বিড়বিড় করছিলি আর বলছিলি...সায়নী, কি বলছিলাম আমি?স্নেহা, সেটা ঠিক বুঝতে পারিনি কিন্তু মনে হলো ঈশানকে শেষ করে দেবো এরকম কিছু বলছিলি।সায়নীর চোখে জল জমেছে বিন্দু বিন্দু, আর কি করবো, ওকে যে আমি কিছুতেই ছাড়াতে পারছিলাম না, সবসময় এই চিন্তাটাই মাথায় ঘুরতো কিভাবে ওর গল্প আমার জীবনে শেষ হবে আর দেখ হয়তো ওই চিন্তায় মাথায় কোনো গল্প তৈরী করেছে যেখানে আমারই মনে হচ্ছে ওই বেচে নেই, ভুত হয়ে আমায় তাড়া করছে। আমি সত্যি চাই ও বেঁচে থাকুক ভালো থাকুক।সারাদিনের কর্মব্যস্ততায় আর সুযোগ হয়ে ওঠেনি রাহুলের সাথে কথা বলার, তবে সায়নী আজ ঠিকই করে রেখেছে আজ যেভাবেই হোক রাহুলের থেকে ঈশানের খবর জানতেই হবে। লাঞ্চ ব্রেক হলো দুপুর দুটোয়, সায়নী ক্যান্টিনের দিকে পা বাড়ালো ঠিক এমন সময় ওই বুঝতে পারলো ওর পাশে সৌভিকও যোগ দিয়েছে, কি গো কাল থেকে তো তোমার পাত্তাই নেই, কি হয়েছে, শরীর ঠিক আছে?সায়নী বিরক্তির সাথে বললো, সৌভিক প্লিজ আমায় একটু সময় দাও, আমার আশেপাশে এখন ঘুরঘুর করোনা মাথা গরম হয়ে গেলে কি বলে দেবো তার ঠিক থাকবেনা।সৌভিক, আরে সেটাই তো জানতে চাইছি তোমার হয়েছে টা কি, এরকম তো তুমি ছিলে না।সায়নী এবার ঝাঁঝালো স্বরে বললো, ছিলাম না এখন হয়ে গেছি, খুশি? এবার বিদেয় হও। তোমায় এক কথা ঠিক কতবার যে বলতে হয় জানিনা, আর তোমার কাজ নেই? সারাদিন মেসেজের পর মেসেজ করেই যাও, একটু একা থাকতে দাও না, আজব ছেলে তুমি একটা।এই বলে সায়নী আরো দ্রুত গতিতে ক্যান্টিনের দিকে এগোলো আর এদিকে সৌভিক বুঝে উঠতে পারলোনা কি হলো, এই মেয়েটার এই রূপ ও আগে কখনো দেখেনি।দু বছরের সম্পর্ক ওদের, এই দু বছরে সায়নীর থেকে ওই শুধুই ভালোবাসা পেয়েছে, এমন কি যখন দু বছর আগে এমপ্লয়ী অফ দা ইয়ার খেতাব পাচ্ছিলো তখনই প্রথমবার সায়নী এসে ওর দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলো। ওই বছর অনেকেই ভেবেছিলো সায়নীর কর্মদক্ষতায় এই খেতাব ওই পাবে কিন্তু শেষ পর্যন্ত খেতাব আসে সৌভিকের কাছে, সৌভিক আশাও করেনি সায়নীর তরফ থেকে বন্ধুত্ব। কিন্তু সায়নীর ওই স্বভাব ওকে সায়নীর প্রতি আকৃষ্ট করেছিল। সামনেই তো বিয়ের কোথাও বলবে ভেবেছিলো, বাড়িতেও জানাবে বলে ঠিক করেছিল আর এইসময় এইরকম ঘটনা সৌভিকের পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছিলো।ও আর ক্যান্টিনে খেতে যায়নি, বরং নিজের কেবিনেই গিয়ে বসলো, কিছুক্ষন পর কেবিনে এলো স্নেহা।ক্রমশ.......(পরবর্তী পর্বে)লেখকঃ সায়ন্তন গোস্বামী, বর্ধমান

সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

উপনির্বাচনের আগে বড় সিদ্ধান্ত কমিশনের, ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ফ্রিজ

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম এবং নির্বাচনী প্রতীক আপাতত ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী এবং বিরোধী গোষ্ঠীকেউই আসন্ন উপনির্বাচনে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস নাম বা দলের জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।দলীয় নাম ও প্রতীকের মালিকানা নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধের জেরেই এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিষয়টি বর্তমানে প্রতীক সংক্রান্ত নির্দেশের ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে বিবেচনাধীন রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষকেই পৃথক পরিচয় এবং আলাদা নির্বাচনী প্রতীকে উপনির্বাচনে লড়তে হবে।কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, দুই গোষ্ঠীকেই তিনটি করে পছন্দের দলের নাম এবং তিনটি করে প্রতীকের বিকল্প জানাতে বলা হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার মধ্যে সেই তালিকা জমা দিতে হবে। এরপর কমিশন দুই পক্ষের জন্য পৃথক নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করবে।নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলের দলীয় পরিচয় ও প্রতীক নিয়ে এই বিরোধ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দুই পক্ষই নিজেদের তৃণমূল কংগ্রেসের বৈধ প্রতিনিধি বলে দাবি করেছে। কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই স্পষ্ট হবে দলীয় নাম ও সংরক্ষিত প্রতীকের অধিকার কার হাতে থাকবে।ততদিন পর্যন্ত উপনির্বাচনে কোনও গোষ্ঠীই অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস নাম বা জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
রাজ্য

‘কোনও যোগ্য উপভোক্তা অন্নপূর্ণার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না', জন্মদিনে মোদীর গ্যারান্টিতে উচ্ছ্বাস মহিলাদের

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বাংলায় পালিত হল অন্নপূর্ণা দিবস। এই উপলক্ষে অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় রাজ্যের ১.৫৮ কোটি মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাসিক ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সল্টলেকে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের প্রতিটি যোগ্য মহিলা যাতে এই প্রকল্পের সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।এদিন কলকাতার সল্টলেকে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ঘোষণা করেন, প্রতি বছর ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন অন্নপূর্ণা দিবস হিসেবে পালন করা হবে। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাজ্যে মহিলাদের মাসিক ৩ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে।অন্নপূর্ণা যোজনা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি আর্থিক সহায়তা প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য মহিলাদের সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সেপ্টেম্বর মাসের কিস্তির টাকা ১.৫৮ কোটি উপভোক্তার মধ্যে অধিকাংশের অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে। বাকি উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টেও বৃহস্পতিবারের মধ্যে পৌঁছে যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।কোনও যোগ্য মহিলা যেন বঞ্চিত না হন, বার্তা মোদিরঅনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, গত ১২ বছরে রাজ্যের মানুষের অন্যতম বড় অভিযোগ ছিল, কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক প্রকল্পের সুবিধা সময়মতো তাঁদের কাছে পৌঁছত না। আগের তৃণমূল সরকারের নাম উল্লেখ না করেই তিনি বলেন, এর ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছিলেন দরিদ্র পরিবারগুলি। তবে বর্তমানে বিজেপি সরকার আটকে থাকা প্রকল্পগুলির কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।মোদির কথায়, বাংলার মহিলাদের হাতে যেমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন, তেমনই এগিয়ে যাওয়ার সাহসও থাকা দরকার। সেই লক্ষ্য পূরণে অন্নপূর্ণা যোজনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, কোনও মায়ের কাছে এই ৩ হাজার টাকা সন্তানের পড়াশোনার খরচ হতে পারে। কোনও বোনের কাছে তা ওষুধ কেনা কিংবা সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার কাজে লাগতে পারে। পরিবারের ছোট-বড় নানা সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি মহিলারা সংসারের একাধিক দায়িত্ব সামলান। নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের চিন্তা কমলে তাঁদের আত্মবিশ্বাসও বাড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, মা, বোন ও মেয়েদের জীবনের প্রতিটি পর্যায়ের সমস্যার সমাধান করাই সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। অন্নপূর্ণা যোজনার মাধ্যমে বাংলার মহিলাদের জীবনে নতুন শক্তি যোগ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এই প্রকল্পে কোনও মধ্যস্থতাকারী বা কাটমানি নেই বলে উল্লেখ করে মোদি বলেন, একজন যোগ্য মহিলাও যাতে প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে সরকার নিরন্তর কাজ করছে।প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ৫০ লক্ষ উপভোক্তার তালিকা তৈরির ঘোষণাএদিনের অনুষ্ঠান থেকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা নিয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, বাংলায় এই প্রকল্পের আওতায় ৫০ লক্ষ উপভোক্তার তালিকা তৈরির কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রকল্পের আওতায় তৈরি হতে চলা সমস্ত নতুন বাড়ির মালিকানা থাকবে মহিলাদের হাতে।মহিলাদের উপর অত্যাচার রুখতে কমিশন গঠনের দাবি মুখ্যমন্ত্রীররাজ্যে মহিলাদের উপর অপরাধ ও অত্যাচারের প্রসঙ্গও উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। শুভেন্দু অধিকারী জানান, গত চার মাসে রাজ্যে মহিলাদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করা হয়েছে।রাজ্যের কোনও মহিলাকে যাতে অত্যাচারের শিকার হতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে বিজেপি সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি, নেশামুক্ত বাংলা গড়ে তুলতে মহিলাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।বাল্যবিবাহ ও কিশোরী মাতৃত্ব নিয়ে উদ্বেগরাজ্যে বাল্যবিবাহ এবং কিশোরী মাতৃত্বের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, এই ক্ষেত্রে মুর্শিদাবাদ ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে রয়েছে।মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন, তাঁর সরকারের আমলে ১৮ বছরের কম বয়সি কোনও মেয়ের বিয়ে হতে দেওয়া হবে না। যাঁরা এই ধরনের বিয়ে দিয়েছেন বা বিয়েতে সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
রাজ্য

প্রদীপের আলোয় তৈরি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি! মোদীর জন্মদিনে বাংলার বুকে এলাহি আয়োজন চমকে দিতে বাধ্য

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন উপলক্ষে অভিনব উদ্যোগ পুরুলিয়ায়। এক লক্ষ প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশাল প্রতিকৃতি তৈরি করে তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানো হল। আশীর্বাদ কা দিয়া অনুষ্ঠানের অঙ্গ হিসেবে পুরুলিয়া ইনডোর স্টেডিয়ামে এই বিশেষ আয়োজন করা হয়।প্রায় ২,৫০০ বর্গফুট এলাকা জুড়ে তৈরি করা হয়েছে নরেন্দ্র মোদীর এই বিশাল প্রতিকৃতি। ঝাড়খণ্ডের ১১ জন শিল্পী তিন দিন ধরে পরিশ্রম করে বিভিন্ন রঙের এক লক্ষ প্রদীপ ব্যবহার করে এই শিল্পকর্ম তৈরি করেছেন। প্রদীপ দিয়ে তৈরি এই প্রতিকৃতি অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।শিল্পী সুজয় কুমার জানিয়েছেন, ঝাড়খণ্ডের বোকারো, গিরিডি ও হাজারিবাগের ১১ জন শিল্পী এই কাজে অংশ নিয়েছেন। সাধারণত বিভিন্ন উপকরণ কিংবা বর্জ্য সামগ্রী ব্যবহার করে মোজাইক শিল্প তৈরি করা হয়। তবে এবার প্রায় এক লক্ষ প্রদীপ ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়েছে।উল্লেখ্য, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন থেকে শুরু করে দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়া পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদীর জনজীবনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই পুরুলিয়ায় এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন বলে জানা গিয়েছে।স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এ বছর পুরুলিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন বিশেষভাবে উদযাপন করা হচ্ছে। সেবা সংকল্প অভিযান-এর অধীনে বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। আশীর্বাদ কা দিয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেই কর্মসূচির সূচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে প্রদীপ জ্বালিয়ে এই বিশাল প্রতিকৃতি তৈরি ঘিরে পুরুলিয়ায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
রাজ্য

দায়িত্ব বাড়লেও বদলায়নি শিকড়ের টান! ১৫০ বছরের মনসা মেলায় পুতুলের দোকানে বিকিকিনিতে ব্যস্ত বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা

বিধায়ক হয়েছেন, বেড়েছে দায়িত্ব। কিন্তু শৈশবের স্মৃতি আর পরিবারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা পুরনো ঐতিহ্য আজও অমলিন। বীরভূমের সাঁইথিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের প্রায় ১৫০ বছরের পুরনো মনসা পুজোর মেলায় পরিবারের সঙ্গে পুতুলের দোকানে বসে সেই কথাই যেন মনে করিয়ে দিলেন বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা। ভাইদের সঙ্গে দোকান সামলাতে দেখা গেল তাঁকে।বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহার কাছে এই মেলা শুধুমাত্র পুজো বা উৎসবের জায়গা নয়। তাঁর শৈশবের বহু স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে এই মেলার সঙ্গে। ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে দেউচা রঘুনাথপুরের এই মেলায় আসতেন তিনি। মেলায় তাঁর বাবা দোকান বসাতেন। বাবার সঙ্গে সেই দোকানে বসে খদ্দের সামলানো, মেলার ভিড় দেখা সবই ছিল তাঁর ছোটবেলার পরিচিত অভিজ্ঞতা।সময়ের সঙ্গে বদলেছে জীবন। শৈশবের সেই দিনগুলি পেরিয়ে বর্তমানে সাঁইথিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা। বেড়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বও। তবে সেই পরিবর্তনের মধ্যেও পুরনো মেলার সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রেখেছেন তিনি।এবার মনসা পুজো উপলক্ষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মেলায় ফিরে পুতুলের দোকানে বসেন বিধায়ক। ভাইদের সঙ্গে দোকান সামলানোর সময় তাঁকে দেখতে ভিড় জমান মেলায় আসা মানুষজন। কেউ দূর থেকে তাঁকে দেখেন, আবার কেউ এগিয়ে এসে কথা বলেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে পরিবারের সঙ্গে তাঁর এই উপস্থিতি নজর কাড়ে স্থানীয়দের।কৃষ্ণকান্ত সাহার বক্তব্য, দায়িত্ব ও পদ একজন মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারে, কিন্তু শিকড় এবং শৈশবের স্মৃতি কখনও মুছে যায় না। বাবার সঙ্গে কাটানো দিনগুলি এখনও তাঁর মনে গভীরভাবে গেঁথে রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।প্রায় দেড়শো বছরের পুরনো এই মেলায় পরিবারের দোকান আর শৈশবের স্মৃতি যেন ফের একসূত্রে বাঁধল বিধায়ককে। জনপ্রতিনিধি হওয়ার পরেও পুরনো ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁর এই সংযোগ স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
দেশ

ব্রিকসের পর হঠাৎ শি জিনপিংয়ের স্ট্রোক? ভাইরাল দাবিতে তোলপাড়, কী বলল দিল্লি?

ভারতের মাটিতে সদ্য শেষ হয়েছে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-সহ একাধিক রাষ্ট্রনেতা যোগ দেন। শি ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ব্রিকসের দুই অধিবেশনেও অংশ নেন। কিন্তু সম্মেলন শেষ হওয়ার পরই তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি দাবি ছড়িয়ে পড়ে।চিনের গণতন্ত্র পার্টির চেয়ারম্যান ওয়ানজুন শিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সময় শি জিনপিং অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এবং তাঁর স্ট্রোক হয়েছিল। তাঁর আরও দাবি, পরে বিশেষ বিমানে শিকে চিনে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তাঁর চিকিৎসা করা হয়। তবে এই দাবির পক্ষে কোনও চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি বা সরকারি প্রমাণ সামনে আসেনি। ভারতের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলিও জানিয়েছে, দাবিটি স্বাধীন ভাবে যাচাই করা যায়নি।এদিকে চিনের সরকারি তথ্যের সঙ্গে ভাইরাল দাবির বেশ কিছু অমিল রয়েছে। চিনের বিদেশ মন্ত্রকের সরকারি বিবরণ অনুযায়ী, শি জিনপিং ১২ সেপ্টেম্বর ব্রিকসের প্রথম অধিবেশনে এবং ১৩ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় অধিবেশনে অংশ নেন। দুই অধিবেশনেই তিনি বক্তব্য রাখেন এবং অন্যান্য রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।চিনের বিদেশ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে শি জিনপিং ব্রিকস সম্মেলনে তাঁর কর্মসূচি শেষ করে বেজিংয়ের উদ্দেশে রওনা দেন। অর্থাৎ সরকারি নথিতে তাঁর সফর নির্ধারিত কর্মসূচি মেনেই শেষ হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।শুধু শি জিনপিং নন, ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়া একাধিক রাষ্ট্রনেতা দেশে ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলেও সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট ছড়ায়। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার স্বাস্থ্য নিয়েও এমন আলোচনা শুরু হয়।এই ধরনের দাবির বিরুদ্ধে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে সতর্ক করা হয়েছে। মন্ত্রকের তথ্য যাচাই সংক্রান্ত শাখা সামাজিক মাধ্যমে একাধিক রাষ্ট্রনেতার অসুস্থতা নিয়ে ছড়ানো পোস্টকে ভুয়ো এবং বিভ্রান্তিকর বলে সতর্ক করেছে। মানুষকে এই ধরনের বিভ্রান্তিকর পোস্টে বিশ্বাস না করারও বার্তা দেওয়া হয়েছে।তবে শি জিনপিংয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সতর্কতার সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। কারণ তাঁর স্ট্রোক, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা অস্ত্রোপচারের দাবি কোনও সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেনি। একই সঙ্গে চিনের সরকারও এমন কোনও স্বাস্থ্যগত ঘটনার কথা ঘোষণা করেনি। ফলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ওই দাবিকে এই মুহূর্তে নিশ্চিত খবর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।অন্যদিকে, ব্রিকস সম্মেলনে শি জিনপিংয়ের উপস্থিতি এবং তাঁর বক্তব্যের বিষয়ে চিনের সরকারি নথি রয়েছে। সম্মেলনের পর তাঁর বেজিং ফেরার বিষয়টিও চিনের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে। ফলে শি জিনপিংয়ের স্বাস্থ্য নিয়ে ছড়ানো দাবির সত্যতা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।সব মিলিয়ে, ব্রিকস সম্মেলনের পর শি জিনপিংয়ের অসুস্থতা নিয়ে যে দাবি ছড়িয়েছে, তার কোনও স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি। অন্যদিকে, বিদেশ মন্ত্রক একাধিক রাষ্ট্রনেতাকে নিয়ে ছড়ানো অসুস্থতার দাবিকে ভুয়ো বলে সতর্ক করেছে। তাই এই মুহূর্তে শি জিনপিংয়ের স্ট্রোক বা জরুরি অস্ত্রোপচারের দাবিকে সত্য বলে ধরে নেওয়ার কোনও ভিত্তি নেই।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
দেশ

নিজের জন্মদিনে বাংলার মহিলাদের জন্য মোদীর বড় বার্তা! বললেন, ‘আপনাদের ভরসাই আমার শক্তি’

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ৭৬তম জন্মদিনে বাংলার মহিলাদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিলেন তিনি। বাংলার মা-বোনেরা তাঁকে যে ভাবে ভালবাসা ও ভরসা দিয়েছেন, সেই কথাই নিজের বক্তব্যে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, বাংলার মহিলাদের ভরসা তাঁকে শক্তি জুগিয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলার মা-বোনেরা সবসময় তাঁকে ভালবাসা ও স্নেহ দিয়েছেন। তাঁদের আত্মীয়তার অনুভূতি তাঁকে সবসময় শক্তি জুগিয়েছে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, বাংলার মহিলাদের ভরসাই তাঁর শক্তি। পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও বাংলার মহিলাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি।এ দিন বাংলায় অন্নপূর্ণা যোজনার টাকাও উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর কর্মসূচি রয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসের ৩ হাজার টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানোর কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার। এ বার প্রায় ১ কোটি ৫৮ লক্ষ মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বলে সরকারি ভাবে জানানো হয়েছে।অন্নপূর্ণা যোজনার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসারে মহিলাদের উপর অনেক দায়িত্ব থাকে। পরিবারের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি সামলানোর পাশাপাশি তাঁদের নিজেদের প্রয়োজনও রয়েছে। হাতে কিছু অর্থ থাকলে জরুরি খরচ নিয়ে তাঁদের চিন্তা কমে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ে। সেই লক্ষ্যেই এই ধরনের আর্থিক সহায়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের কাজের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বেশি কাজ করা এবং কম কথা বলা। বাংলার মহিলাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাঁদের পরিশ্রম ও পরিবারের প্রতি দায়িত্বের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।এ দিন বাংলায় পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্প নিয়েও বিশেষ কর্মসূচি রয়েছে। কলকাতায় এই প্রকল্পের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দেশের ঐতিহ্যবাহী কারিগর ও শিল্পীদের আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়াই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।এই প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী পেশার সঙ্গে যুক্ত কারিগর ও শিল্পীরা প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম কেনার সহায়তা এবং ঋণের সুবিধা পেতে পারেন। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, যোগ্য উপভোক্তাদের প্রথম ধাপে ১ লক্ষ টাকা এবং পরে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণের সুযোগ রয়েছে। ঋণের সুদের হার ৫ শতাংশ।ফলে মোদীর জন্মদিনে বাংলায় একদিকে অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তা, অন্য দিকে পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্পের বর্ষপূর্তিদুই কর্মসূচিই বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলার মহিলাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা এবং কারিগরদের জন্য প্রকল্পের সুবিধা ঘিরে এ দিন রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অন্নপূর্ণা যোজনার সেপ্টেম্বরের অর্থসাহায্য এবং বিশ্বকর্মা প্রকল্পের কর্মসূচিদুই ক্ষেত্রেই সরকারি ঘোষণাই এখন মূল বিষয়।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
রাজ্য

পথ খরচ নিতে গিয়েই ফাঁদে! চার দশক পর কলকাতা পুলিশের জালে মাওবাদী নেতা আকাশ

পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা এলাকার বাসিন্দা অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ ওরফে তিমির ওরফে মনোজকে পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, তাঁর মাথার দাম ছিল এক কোটি টাকা। দীর্ঘ প্রায় চার দশক ধরে পুলিশের নজর এড়িয়ে থাকার পর অবশেষে তাঁর গ্রেপ্তারি ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে পটাশপুর এলাকার কোনও একটি জায়গা থেকে আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ, এক পূর্ব পরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে পথ খরচ নেওয়ার জন্য সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় কলকাতা পুলিশের টাস্ক ফোর্সের হাতে ধরা পড়েন তিনি। তাঁর কাছ থেকে দুটি ব্যাগ উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। সেই ব্যাগে মাওবাদী সংগঠনের বই, পুস্তিকা এবং কিছু বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম ছিল বলে জানা যাচ্ছে। তবে এই গ্রেপ্তারি নিয়ে রাজ্য পুলিশের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা থানার ফুলচক এলাকার বাসিন্দা অসীম মণ্ডল ছাত্রজীবন থেকেই অতি বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। পরে তিনি পিপলস ওয়ার গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হন। সারেঙ্গা, গোয়ালতোড়-সহ জঙ্গলমহলের বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনের কাজ করার পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার গুড়াবান্দা এলাকাতেও দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন বলে অভিযোগ।২০০৪ সালে সিপিআই মাওবাদী সংগঠন তৈরি হওয়ার পর জঙ্গলমহলে ফিরে সক্রিয় ভাবে সংগঠনের কাজ শুরু করেন অসীম। লালগড় আন্দোলনের সময়ও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। পরে ২০১০ সালে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদকের দায়িত্ব পান তিনি। বাংলা, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা নিয়ে গঠিত আঞ্চলিক কমিটির সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর।কিষানজির মৃত্যুর পর মাওবাদী সংগঠনে তাঁর সক্রিয়তা আগের মতো ছিল না বলে তদন্তকারীদের দাবি। এরপর জঙ্গলমহল ছেড়ে ঝাড়খণ্ডে গা ঢাকা দেন আকাশ। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর পর ফের বাংলায় আসার চেষ্টা করেন তিনি বলে পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে।সম্প্রতি ঝাড়খণ্ডে পুলিশের অভিযানে মাওবাদী সংগঠনের কয়েক জন সদস্য গ্রেপ্তার হন। তাঁদের মধ্যে তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং এক জন আত্মসমর্পণ করেন বলে জানা যায়। এরপর বাংলার মাওবাদী সংগঠনের সশস্ত্র কাঠামোও দুর্বল হয়ে পড়ে বলে তদন্তকারীদের দাবি।পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, আকাশ দীর্ঘদিন জঙ্গলে থাকার পর শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। উচ্চ রক্তচাপ এবং কোমরের ব্যথার কারণে প্রায় চার দশক পর তিনি জঙ্গল ছেড়ে বেরিয়ে আসেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। জঙ্গলে একটি একে-৪৭ এবং কিছু নথিপত্র রেখে তিনি গাড়িতে করে বাইরে বেরিয়েছিলেন বলেও পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে।এর পর আরও কয়েক জন মাওবাদী সদস্য পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে আকাশ আত্মসমর্পণ করবেন না বলে জানিয়েছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। বরং কিছুদিন বাইরে থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফের জঙ্গলমহলে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। সেই পরিকল্পনার মধ্যেই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলেন তিনি।তদন্তকারীদের দাবি, আত্মগোপনের জন্য পরিচিত এবং আত্মীয়দের কয়েক জনের কাছে আশ্রয় নেওয়ার কথা ভেবেছিলেন আকাশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সন্দেহ এড়াতে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন তিনি। কখনও জায়গা বদল, কখনও ছদ্মবেশসব রকম ভাবে পুলিশের নজর এড়ানোর চেষ্টা চলছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। গ্রেপ্তারের আগে তাঁর কাছে প্রায় দেড় লাখ টাকা নগদ ছিল বলেও ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা যাচ্ছে।আকাশের স্ত্রীও পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর এলাকার বাসিন্দা বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তিনিও মাওবাদী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য ছিলেন বলে অভিযোগ। ২০১০ সালে কলকাতা পুলিশের টাস্ক ফোর্স তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল বলে জানা যায়। বর্তমানে তিনি জেলে রয়েছেন।আকাশের গ্রেপ্তারের পর বাংলা, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশায় মাওবাদী দমনে যুক্ত নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা এক মাওবাদী নেতার গ্রেপ্তারের পর তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া নথি ও বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। সেগুলি থেকে সংগঠনের বর্তমান বা অতীত কার্যকলাপ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যায় কি না, এখন সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
কলকাতা

১৩ বছর পর ফের খুলবে মহাকরণের দরজা? মুখ্যমন্ত্রীর ঘর তৈরির কাজ শেষের পথে

পুজোর আর বেশি দিন বাকি নেই। তার আগেই রাজ্য প্রশাসনের ঠিকানায় বড় বদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ ১৩ বছর পর ফের মহাকরণ থেকে প্রশাসনিক কাজ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। পূর্ত দফতর সূত্রে খবর, আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী-সহ ছয় মন্ত্রীর ঘর তৈরির কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি-সহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েক জন আমলার জন্যও ঘর তৈরির কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফলে পুজোর আগেই মহাকরণে প্রশাসনিক কাজকর্মের একটি বড় অংশ শুরু হতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।মহাকরণে সংস্কারের কাজ কতটা এগিয়েছে, তা নিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার। সূত্রের খবর, বৈঠকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ১০ অক্টোবরের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর ঘর এবং আরও পাঁচ মন্ত্রীর ঘর প্রস্তুত করার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে।প্রাথমিক ভাবে যে তালিকা সামনে এসেছে, তাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, শঙ্কর ঘোষ, শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং অজয় পোদ্দারের জন্য মহাকরণে ঘর তৈরির কাজ চলছে। মহাকরণের তৃতীয় তলায় মুখ্যমন্ত্রী-সহ মন্ত্রীদের বসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।শুধু মন্ত্রীদের ঘর নয়, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকদের জন্যও মহাকরণে জায়গা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ফের ঐতিহ্যবাহী এই ভবন থেকে পরিচালিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।মহাকরণ সংস্কারের সামগ্রিক দায়িত্ব আদানি গোষ্ঠীর হাতে দেওয়া হতে পারে বলেও জল্পনা রয়েছে। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং কী ভাবে সংস্কারের কাজ এগোবে, তা নিয়ে এখনও বিস্তারিত প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গিয়েছে।মহাকরণের সঙ্গে রাজ্যের প্রশাসনিক ইতিহাসের সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। ২০১৩ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময়ে রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক দফতর মহাকরণ থেকে নবান্নে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ব্রিটিশ আমলে তৈরি এই ঐতিহাসিক ভবনের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েই সেই সময় প্রশাসনের মূল কেন্দ্র সরানো হয়েছিল।এর পর দীর্ঘ সময় ধরে মহাকরণ সংস্কারের কাজ চললেও তা সম্পূর্ণ হয়নি। সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ১৩ বছর পরেও সংস্কারের একটি বড় অংশ অসম্পূর্ণ রয়েছে।২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মহাকরণকে ফের প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা সামনে আসে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শপথ নেওয়ার পর থেকেই মহাকরণে তাঁর জন্য ঘর তৈরির প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল।এখন সেই প্রস্তুতিতেই আরও গতি এসেছে। ১০ অক্টোবরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ঘরগুলির কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়ায় প্রশ্ন উঠছে, পুজোর আগেই কি নবান্নের বদলে মহাকরণ থেকে প্রশাসনিক কাজ শুরু করবেন মুখ্যমন্ত্রী? আপাতত সেই দিকেই নজর রয়েছে।মহাকরণে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর মন্ত্রী ও আমলাদের ঘর তৈরির কাজও দ্রুত এগোচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হলে বহু বছর পর ফের মহাকরণে রাজ্য প্রশাসনের ব্যস্ততা দেখা যেতে পারে।

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal